৯ম/১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান গাইড Download Class 9-10 Biology Guide PDF নবম- দশম শ্রেণির (এসএসসি) জীববিজ্ঞান গাইডের অধ্যায়ভিত্তিক মূল তত্ত্ব, গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম এবং সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনি প্রশ্নের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যায়ভিত্তিক মূল সংক্ষিপ্ত নোট ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি ।
অধ্যায় ১: জীবন পাঠ
- জীববিজ্ঞানের শাখা: প্রধান শাখা দুটি—ভৌত জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয় বিষয়) ও ফলিত জীববিজ্ঞান (জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়)।
- অ্যারিস্টটল: জীববিজ্ঞানের জনক।
- ক্যারোলাস লিনিয়াস: দ্বিপদ নামকরণের জনক। তিনি ১৭৫৩ সালে স্পিসিজ প্ল্যান্টারাম বইয়ে দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন।
- জীবজগৎ বিন্যাস: আর এইচ হুইটেকার (১৯৬৯) জীবজগৎকে ৫টি রাজ্যে (মনেরা, প্রটিস্টা, ফানজাই, প্লান্টি, অ্যানিমেলিয়া) ভাগ করেন। পরবর্তীতে মারগুলিস (১৯৭৪) এটি সংশোধন করেন।
- গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপদ নাম: মানব (Homo sapiens), ধান (Oryza sativa), পাট (Corchorus olitorius), শাপলা (Nymphaea nouchali), আম (Mangifera indica), সিংহ (Panthera leo)।
অধ্যায় ২: জীবকোষ ও টিস্যু
- আদি কোষ ও প্রকৃত কোষ: আদি কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না (যেমন: ব্যাকটেরিয়া)। প্রকৃত কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- প্লাস্টিড: উদ্ভিদের প্রধান অঙ্গাণু। ৩ প্রকার—ক্লোরোপ্লাস্ট (সবুজ), ক্রোমোপ্লাস্ট (রঙিন), লিউকোপ্লাস্ট (বর্ণহীন)। ক্লোরোপ্লাস্টকে কোষের রান্নাঘর বলা হয়।
- মাইটোকন্ড্রিয়া: কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তিঘর। এর ভেতরের ভাঁজকে ক্রিস্টি বলে।
- রাইবোজোম: প্রোটিন ফ্যাক্টরি (প্রোটিন সংশ্লেষণ করে)।
- লাইসোজোম: জীবানু ধ্বংস করে (অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ায়)।
- জাইলেম ও ফ্লোয়েম: জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে। ফ্লোয়েম উদ্ভিদের তৈরি খাদ্য পরিবহন করে।
অধ্যায় ৩: কোষ বিভাজন
- অ্যামাইটোসিস: প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক)।
- মাইটোসিস: সমীকরণিক বিভাজন। দেহকোষে ঘটে। ১টি মাতৃকোষ থেকে ২টি অপত্য কোষ তৈরি হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে। এর ৫টি পর্যায়: প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ, টেলোফেজ। মেটাফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোম সবচেয়ে খাটো ও মোটা হয়।
- মিওসিস: হ্রাসমূলক বিভাজন। জনন মাতৃকোষে ঘটে। ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। ১টি কোষ থেকে ৪টি কোষ তৈরি হয়।
অধ্যায় ৪: জীবনীশক্তি
- এটিপি (ATP): অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট। একে জৈব মুদ্রা বা বায়োলজিক্যাল কয়েন বলা হয়।
- সালোকসংশ্লেষণ: উদ্ভিদ ক্লোরোপ্লাস্টের সাহায্যে আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এর দুটি পর্যায়—আলোক নির্ভর পর্যায় এবং আলোক নিরপেক্ষ পর্যায় (ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র)।
- শ্বসন: গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া। ২ প্রকার—সবাত শ্বসন (অক্সিজেন লাগে, ৩৮টি ATP তৈরি হয়) ও অবাত শ্বসন (অক্সিজেন লাগে না, ২টি ATP তৈরি হয়)।
অধ্যায় ৫: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক
- উদ্ভিদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট: ১০টি (N, K, P, Ca, Mg, C, H, O, S, Fe)।
- উদ্ভিদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: ৬টি (B, Mn, Mo, Zn, Cu, Cl)।
- বিএমআর (BMR) ও বিএমআই (BMI): BMI হলো শরীরের ওজন (কেজি) / উচ্চতা (মিটার স্কয়ার)। স্বাভাবিক BMI হলো ১৮.৫ থেকে ২৪.৯।
- পরিপাক গ্রন্থি: লালাগ্রন্থি, যকৃৎ (মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি), অগ্ন্যাশয় (মিশ্র গ্রন্থি), গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি, আন্ত্রিক গ্রন্থি।
অধ্যায় ৬: জীবে পরিবহন
- অসমোসিস বা অভিস্রবণ: কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে দ্রাবক (পানি) বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে গমন করা।
- প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: উদ্ভিদ দেহ থেকে অতিরিক্ত পানি বাষ্প আকারে বের করে দেওয়া। একে উদ্ভিদের জন্য 'প্রয়োজনীয় ক্ষতি' (Necessary evil) বলা হয়। এটি ৩ প্রকার—পত্ররন্ধ্রীয়, ত্বকীয় বা কিউটিকুলার, লেন্টিকুলার।
- রক্ত: মানবদেহের তরল যোজক কলা। রক্তকণিকা ৩ প্রকার—লোহিত রক্তকণিকা (আয়ু ১২০ দিন), শ্বেত রক্তকণিকা (প্রহরী), অণুচক্রিকা (রক্ত জমাট বাঁধায়)।
- রক্তের গ্রুপ: কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৯০০ সালে আবিষ্কার করেন। গ্রুপ O-কে সর্বজনীন দাতা এবং গ্রুপ AB-কে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়।
অধ্যায় ৭: গ্যাসীয় বিনিময়
- মানব শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ: ফুসফুস। ফুসফুসের ডানপাশে ৩টি এবং বামপাশে ২টি খণ্ড থাকে। এর বায়ুথলিকে অ্যালভিওলাস বলে।
- উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময়: পত্ররন্ধ্র (Stomata) এবং কাণ্ডের লেন্টিসেলের মাধ্যমে ঘটে।
অধ্যায় ৮: রেচন প্রক্রিয়া
- রেচন অঙ্গ: প্রধান অঙ্গ হলো কিডনি বা বৃক্ক। এটি দেহের ৮০ ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য নিষ্কাশন করে।
- নেফ্রন: বৃক্কের গঠন ও কার্যগত একক। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
অধ্যায় ১১: জীবের প্রজনন
- ফুলের স্তবক: ৫টি। অত্যাবশ্যকীয় স্তবক হলো পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক।
- পরাগায়ন: ২ প্রকার—স্ব-পরাগায়ন (একই ফুল বা একই গাছের দুটি ফুলে) ও পর-পরাগায়ন (একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলে)।
অধ্যায় ১২: জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
- বংশগতির ভৌত ভিত্তি: ক্রোমোজোম। রাসায়নিক ভিত্তি হলো ডিএনএ (DNA) ও আরএনএ (RNA)।
- ডিএনএ মডেল: ওয়াটসন ও ক্রিক ১৯৫৩ সালে ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কার করেন। এর নাইট্রোজেন বেসগুলো হলো অ্যাডেনিন, থাইমিন, সাইটোসিন, গুয়ানিন।
- মেন্ডেল: বংশগতিবিদ্যার জনক।
- ডারউইন: প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের প্রবক্তা (বিবর্তনবাদ)।
এসএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান মানবণ্টন
- সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ): ৫০ নম্বর (৮টি প্রশ্ন থাকবে, ৫টির উত্তর দিতে হবে)।
- বহু-নির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ): ২৫ নম্বর (২৫টি প্রশ্ন থাকবে, সবগুলোর উত্তর দিতে হবে)।
- ব্যবহারিক পরীক্ষা (Practical): ২৫ নম্বর।
৯ম/১০ম শ্রেণির জীববিজ্ঞান গাইড Class 9-10 Biology Guide PDF
No comments:
Post a Comment