এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর চিত্র
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ, যা গত বছর (২০২৫ সালে) ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। সেই হিসাবে সাধারণ বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩.৯৯ শতাংশ।
পরীক্ষার ফলাফলে এবারও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রদের চেয়ে ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে সার্বিকভাবে এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০২৬ সালে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী, যা ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজার ৯টি।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি
এবার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি। তবে কমেছে শতভাগ পাস ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সূচক।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শতভাগ অনুত্তীর্ণ (০ শতাংশ পাস) প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে, যা গত বছর ছিল ৪৮টি। সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শূন্য শতাংশ পাস প্রতিষ্ঠান বেড়ে হয়েছে ২২৬টি (গত বছর ছিল ৮৬টি) এবং কারিগরি বোর্ডে শূন্য শতাংশ পাস প্রতিষ্ঠান হয়েছে ২৯টি (গত বছর যা ছিল ০টি)।
বিদেশ কেন্দ্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৪০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৫৪ জন এবং অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৪৮ জন। পাসের হার ৮৮.০৬ শতাংশ। বিদেশ কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ২টি এবং ০ শতাংশ উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান ১টি।
ফল জানার নিয়ম ও পরিবর্তন
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর (২০ জুলাইয়ের পরিবর্তে আজ ১০ আগস্ট) এ ফল প্রকাশ করা হলো।
পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও অনলাইনে এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে। এবার এসএমএসে ফল দেখার পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৬২২২ নম্বরে পাঠানোর পাশাপাশি নতুন ১৬১৪০ নম্বরেও এসএমএস পাঠানো যাবে।
অনলাইনে ফল: শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব পোর্টাল (https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd) ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো EIIN ব্যবহার করে রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করতে পারবে।
এসএমএসে ফল: যেকোনো মোবাইল থেকে SSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম ৩ অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> 2026 লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে। (উদাহরণ: SSC Dha 123456 2026)
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কোনো পত্রিকা অফিসে সরাসরি ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
পুনঃনিরীক্ষণ আবেদন
প্রকাশিত ফলাফলে সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করতে পারবে। ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
No comments:
Post a Comment