জিরো আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম: ই-টিন দিয়ে অনলাইনে রিটার্ন Zero Income Tax Return Bangladesh: How to File Online Using e-TIN - Daily Result BD

Breaking

Sunday

জিরো আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম: ই-টিন দিয়ে অনলাইনে রিটার্ন Zero Income Tax Return Bangladesh: How to File Online Using e-TIN

Zero Income Tax Return in Bangladesh: How to File Online Using e-TIN

বাংলাদেশে জিরো শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম: ই-টিন দিয়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশে ই-টিন (e-TIN) নিবন্ধন করার পর অনেক করদাতার মনে প্রশ্ন থাকে, আয় না থাকলে বা করযোগ্য আয় না হলে কি আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে? আবার যাঁদের আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে রয়েছে, তাঁদেরও কি রিটার্ন দাখিল করা প্রয়োজন?

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই বুঝতে হবে, কর দিতে না হওয়া এবং আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকা এক বিষয় নয়। আইন অনুযায়ী যাঁদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাঁদের আয় থেকে কোনো কর প্রদেয় না হলেও রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে।

যে রিটার্নে প্রযোজ্য হিসাব, কর রেয়াত, উৎসে কর ও অন্যান্য সমন্বয় বিবেচনার পর চূড়ান্ত প্রদেয় আয়কর শূন্য হয়, সাধারণভাবে সেটিকে শূন্য আয়কর রিটার্ন বা Zero Tax Return বলা হয়। তবে শূন্য রিটার্ন মানেই আয়, সম্পদ বা ব্যাংক জমা শূন্য—এমন নয়।

বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। এই গাইডে শূন্য রিটার্নের ধারণা, কারা রিটার্ন দেবেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ধাপগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

শূন্য আয়কর রিটার্ন কী?

শূন্য আয়কর রিটার্ন হলো এমন একটি আয়কর রিটার্ন, যেখানে প্রযোজ্য নিয়মে হিসাব করার পর করদাতার চূড়ান্ত প্রদেয় আয়করের পরিমাণ শূন্য হয়।

এটি কয়েকটি পরিস্থিতিতে হতে পারে:

  • করদাতার আয় প্রযোজ্য করমুক্ত সীমার মধ্যে রয়েছে।

  • করযোগ্য আয় থাকলেও আইন অনুযায়ী অনুমোদিত কর রেয়াত বা অন্যান্য প্রযোজ্য সমন্বয়ের কারণে চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হয়েছে।

  • প্রযোজ্য হিসাব অনুযায়ী করদাতার কোনো অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হচ্ছে না।

তবে করদাতার আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য সত্য ও সম্পূর্ণভাবে দিতে হবে। শুধু প্রদেয় কর শূন্য দেখানোর জন্য প্রকৃত আয় বা সম্পদের তথ্য বাদ দেওয়া উচিত নয়।

শূন্য রিটার্ন ও শূন্য আয়ের মধ্যে পার্থক্য

এই দুটি বিষয় এক নয়।

শূন্য আয়: সংশ্লিষ্ট সময়ে করদাতার কোনো আয় হয়নি।

শূন্য আয়কর: করদাতার আয় থাকতে পারে, কিন্তু প্রযোজ্য নিয়মে হিসাব করার পর চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি চাকরি বা ব্যবসা থেকে আয় না করলেও তাঁর ব্যাংক জমা, সঞ্চয়পত্র, জমি বা অন্যান্য সম্পদ থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি আয় করলেও করমুক্ত সীমা, অনুমোদিত কর রেয়াত বা উৎসে কর সমন্বয়ের কারণে চূড়ান্ত করদায় শূন্য হতে পারে।

তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য দিতে হবে।

কারা শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন?

যাঁদের রিটার্ন দাখিল করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এবং যাঁদের হিসাব অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রদেয় আয়কর শূন্য, তাঁদের ক্ষেত্রে শূন্য আয়কর রিটার্ন প্রযোজ্য হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়:

১. যাঁদের আয় প্রযোজ্য করমুক্ত সীমার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু আইন অনুযায়ী রিটার্ন দিতে হয়।

২. যাঁদের কোনো করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু তাঁদের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

৩. যাঁদের আয় রয়েছে, তবে প্রযোজ্য কর রেয়াত বা অন্যান্য বৈধ সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হয়।

৪. যাঁদের উৎসে কর কাটা হয়েছে এবং প্রযোজ্য নিয়মে কর সমন্বয়ের পর অতিরিক্ত কর প্রদেয় থাকে না।

৫. যাঁদের নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণ বা আইনগত প্রয়োজনে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দিতে হয় এবং যাঁদের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য।

মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক ই-টিনধারীর জন্য সব পরিস্থিতিতে রিটার্ন বাধ্যতামূলক—এমন সাধারণীকরণ না করে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন ও নিজের পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন।

আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে কি রিটার্ন দিতে হবে?

শুধু আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে রয়েছে বলে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

বাংলাদেশের আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সেবা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আয় কম হলেও রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে।

রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করুন:

  • আপনার বার্ষিক আয় কত?

  • আপনার পেশা বা অবস্থানের কারণে রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না?

  • কোনো নির্দিষ্ট সেবা বা আর্থিক লেনদেনের জন্য রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন কি না?

  • পূর্ববর্তী করবর্ষে কোনো রিটার্ন বা কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা বাকি রয়েছে কি না?

সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখুন অথবা সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

অনলাইনে শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কী কী লাগবে?

ই-রিটার্ন দাখিলের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুত রাখলে প্রক্রিয়াটি সহজ হয়।

সাধারণভাবে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:

  • ই-টিন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য।

  • প্রযোজ্য করবর্ষের আয়-সংক্রান্ত তথ্য।

  • চাকরি, ব্যবসা, বাড়িভাড়া, ব্যাংক সুদ বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তথ্য, যেখানে প্রযোজ্য।

  • ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ এবং উৎসে কর্তিত করের তথ্য।

  • সম্পদ, দায় এবং ঋণের তথ্য, যেখানে প্রযোজ্য।

  • পূর্ববর্তী রিটার্নের তথ্য, যদি থাকে।

  • অনুমোদিত বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র।

সব করদাতার জন্য একই ধরনের নথি প্রয়োজন হয় না। আপনার আয় ও সম্পদের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য তথ্য প্রস্তুত রাখুন।

অনলাইনে শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

বাংলাদেশে এনবিআরের সরকারি ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা যায়।

সরকারি পোর্টাল: https://etaxnbr.gov.bd/

নিচে সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

ধাপ ১: ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন

প্রথমে https://etaxnbr.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর নিজের নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।

নতুন ব্যবহারকারী হলে পোর্টালে প্রদর্শিত নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

ধাপ ২: সঠিক করবর্ষ নির্বাচন করুন

লগইন করার পর যে করবর্ষের রিটার্ন জমা দিতে চান, সেটি সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।

ভুল করবর্ষ নির্বাচন করলে আয়, বিনিয়োগ বা কর পরিশোধের তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। তাই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে করবর্ষ নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৩: রিটার্নের ধরন নির্বাচন করুন

পোর্টালে উপলভ্য বিকল্প অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রিটার্নের ধরন নির্বাচন করুন।

আপনার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত রিটার্নের কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য, তা উপলভ্য নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করুন। সব ব্যবহারকারীর জন্য একই বিকল্প বা একই ধাপ প্রদর্শিত নাও হতে পারে।

ধাপ ৪: আয়-সংক্রান্ত তথ্য দিন

রিটার্ন ফর্মে আপনার প্রকৃত আয়ের তথ্য প্রদান করুন।

আয় না থাকলে প্রযোজ্য প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিন। আবার আয় থাকলেও তা করমুক্ত বা অন্য কোনো কারণে চূড়ান্ত করদায় শূন্য হলে প্রকৃত আয় গোপন না করে সঠিক খাতে উল্লেখ করুন।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আয় নিম্নলিখিত খাত থেকে আসতে পারে:

  • চাকরি থেকে আয়।

  • ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়।

  • বাড়িভাড়া থেকে আয়।

  • আর্থিক সম্পদ থেকে আয়, যেমন ব্যাংক সুদ বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা।

  • অন্যান্য প্রযোজ্য আয়ের খাত।

আপনার প্রকৃত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগ পূরণ করুন।

ধাপ ৫: কর রেয়াত ও উৎসে করের তথ্য যাচাই করুন

আপনার অনুমোদিত বিনিয়োগ, কর রেয়াত বা উৎসে কর্তিত কর থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে সঠিক তথ্য দিন।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, ব্যাংক সুদ বা অন্যান্য আয়ের ওপর উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সেই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কোনো কর রেয়াত বা উৎসে করের তথ্য প্রযোজ্য না হলে শুধু প্রদেয় কর শূন্য দেখানোর জন্য ভুল তথ্য দেবেন না।

ধাপ ৬: সম্পদ ও দায়ের তথ্য দিন

আপনার ক্ষেত্রে সম্পদ ও দায়ের বিবরণ দাখিল করা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ পূরণ করুন।

উদাহরণ:

  • ব্যাংক জমা।

  • সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য বিনিয়োগ।

  • জমি, বাড়ি বা অন্যান্য স্থাবর সম্পদ।

  • ব্যবসায়িক সম্পদ।

  • ঋণ ও অন্যান্য দায়।

কোন তথ্য কোন খাতে দিতে হবে, তা পোর্টালের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিয়ে সম্পদের বিবরণ অসম্পূর্ণ রাখবেন না।

ধাপ ৭: ব্যয় ও অর্থের উৎসের তথ্য মিলিয়ে দেখুন

যেখানে প্রযোজ্য, আপনার বার্ষিক ব্যয় এবং সম্পদ অর্জনের অর্থের উৎসের তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন।

আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, সম্পদ বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের মধ্যে যুক্তিসংগত সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে জমা দেওয়ার আগে তা যাচাই করুন।

ধাপ ৮: Tax and Payment বিভাগ যাচাই করুন

এই পর্যায়ে পোর্টালে প্রদর্শিত করের হিসাব, উৎসে কর, অগ্রিম কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সমন্বয় যাচাই করুন।

চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হলে নিশ্চিত করুন যে হিসাবটি সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। শুধু শূন্য কর দেখানোর জন্য কোনো তথ্য পরিবর্তন বা বাদ দেবেন না।

ধাপ ৯: রিটার্ন রিভিউ করুন

সাবমিট করার আগে পুরো রিটার্ন পর্যালোচনা করুন।

বিশেষভাবে যাচাই করুন:

  • ব্যক্তিগত তথ্য ও করবর্ষ।

  • আয়ের প্রতিটি খাত।

  • বিনিয়োগ ও কর রেয়াত।

  • উৎসে কর্তিত কর।

  • সম্পদ ও দায়।

  • চূড়ান্ত করের হিসাব।

ধাপ ১০: রিটার্ন সাবমিট ও প্রাপ্তিস্বীকার সংরক্ষণ করুন

সব তথ্য সঠিক থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী রিটার্ন সাবমিট করুন।

সফলভাবে জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার, রিটার্নের কপি বা পোর্টালে উপলভ্য সংশ্লিষ্ট নথি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

পোর্টালের ইন্টারফেস ও ধাপ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই স্ক্রিনে প্রদর্শিত বর্তমান নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিন।

সঞ্চয়পত্র থাকলে কি শূন্য আয়কর রিটার্ন দেওয়া যায়?

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ থাকলে এবং সেখান থেকে মুনাফা পাওয়া গেলে সেটিকে আয়-সংক্রান্ত হিসাবের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলেও সেই তথ্য রিটার্নে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। উৎসে কর কর্তন হয়েছে বলে মুনাফার তথ্য বাদ দেওয়া যাবে না।

সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে নিচের বিষয়গুলো যাচাই করুন:

১. সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণ।

২. মুনাফার ওপর কর্তিত উৎসে করের পরিমাণ।

৩. প্রযোজ্য নিয়মে অনুমোদিত বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের যোগ্যতা।

৪. রিটার্নে সঞ্চয়পত্রকে আর্থিক সম্পদ হিসেবে দেখানোর প্রয়োজনীয়তা।

৫. চূড়ান্ত কর হিসাব এবং উৎসে কর সমন্বয়ের ফলাফল।

সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের যোগ্যতা, সীমা এবং হিসাব সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তাই নির্দিষ্ট কোনো বিনিয়োগের অঙ্ককে সব করদাতার জন্য প্রযোজ্য সর্বোচ্চ রেয়াত ধরে নেওয়া উচিত নয়।

সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর অনলাইনে কীভাবে দেখাবেন?

ই-রিটার্ন পোর্টালে উৎসে করের তথ্য প্রদানের জন্য প্রযোজ্য বিভাগ বা লেজার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করতে হতে পারে।

সাধারণভাবে প্রক্রিয়াটি হলো:

১. রিটার্নের আয় বিভাগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তথ্য দিন।

২. প্রযোজ্য বিনিয়োগ বা কর রেয়াতের তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করুন।

৩. Tax and Payment বিভাগে উৎসে কর্তিত করের তথ্য যাচাই করুন।

৪. পোর্টালে উৎসে কর দাবি বা আপডেট করার জন্য আলাদা লেজার সুবিধা থাকলে সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিন।

৫. তথ্য সংরক্ষণ করে পোর্টালে প্রদর্শিত কর পরিশোধের অবস্থা যাচাই করুন।

৬. উৎসে কর যথাযথভাবে সমন্বিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে চূড়ান্ত রিটার্ন পর্যালোচনা করুন।

সঞ্চয়পত্রের তথ্য, উৎসে কর এবং সম্পদের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। পোর্টালে প্রদর্শিত বিকল্পের নাম বা বিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে, তাই বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সাধারণ ভুল

রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কয়েকটি ভুল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

প্রকৃত আয় গোপন করা: কর শূন্য হওয়ার উদ্দেশ্যে আয় বা মুনাফার তথ্য বাদ দেওয়া উচিত নয়।

সম্পদের তথ্য না দেওয়া: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পদ ও দায়ের বিবরণ সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

উৎসে করের ভুল হিসাব: ব্যাংক সুদ, সঞ্চয়পত্র বা অন্যান্য আয়ের ওপর কর্তিত কর সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

ভুল করবর্ষ নির্বাচন: যে করবর্ষের রিটার্ন জমা দেওয়া হচ্ছে, তার তথ্যই ব্যবহার করতে হবে।

কর রেয়াতের ভুল দাবি: আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়, এমন বিনিয়োগ বা ব্যয়ের ওপর কর রেয়াত দাবি করা যাবে না।

প্রাপ্তিস্বীকার সংরক্ষণ না করা: রিটার্ন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তিস্বীকার ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করা উচিত।

শূন্য আয়কর রিটার্ন সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. শূন্য আয়কর রিটার্ন কী?

যে রিটার্নে প্রযোজ্য নিয়মে হিসাব করার পর চূড়ান্ত প্রদেয় আয়কর শূন্য হয়, সেটিকে সাধারণভাবে শূন্য আয়কর রিটার্ন বলা হয়।

২. ই-টিন থাকলে কি সবাইকে রিটার্ন জমা দিতে হবে?

রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা সংশ্লিষ্ট আয়কর আইন ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। শুধু ই-টিন থাকার তথ্যের ভিত্তিতে সব পরিস্থিতির জন্য একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

৩. কোনো আয় না থাকলেও কি রিটার্ন জমা দেওয়া যায়?

যাঁদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তাঁদের আয় না থাকলেও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। রিটার্নে প্রকৃত পরিস্থিতি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।

৪. আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে কি শূন্য রিটার্ন দিতে হবে?

আপনার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। করমুক্ত সীমার মধ্যে আয় থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নের বাধ্যবাধকতা শেষ হয় না।

৫. সঞ্চয়পত্র থাকলে কি শূন্য রিটার্ন দেওয়া সম্ভব?

সঞ্চয়পত্র থেকে মুনাফা পাওয়া গেলে তা আয় হিসেবে যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রযোজ্য কর, রেয়াত ও উৎসে কর সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হতে পারে; তবে তা সঠিক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।

৬. অনলাইনে আয়কর রিটার্ন কোথায় জমা দেব?

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সরকারি ই-রিটার্ন পোর্টাল https://etaxnbr.gov.bd/ ব্যবহার করতে পারেন।

উপসংহার

শূন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের মূল উদ্দেশ্য হলো করদাতার প্রকৃত আয়, সম্পদ, দায় এবং প্রযোজ্য কর-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ম অনুযায়ী উপস্থাপন করা। চূড়ান্ত প্রদেয় কর শূন্য হলেও, যাঁদের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তাঁদের সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে।

ই-রিটার্ন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে রিটার্নের ধরন, প্রয়োজনীয় তথ্য, কর রেয়াত, উৎসে কর এবং সম্পদের বিবরণ করদাতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের আয় ও সম্পদের তথ্য প্রস্তুত করুন, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নিয়ম যাচাই করুন এবং সাবমিট করার পর প্রাপ্তিস্বীকার সংরক্ষণ করুন।

সরকারি লিংক: https://etaxnbr.gov.bd/

দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, কর রেয়াত ও প্রয়োজনীয় তথ্যের ক্ষেত্রে বর্তমান আয়কর আইন এবং এনবিআরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

No comments:

Post a Comment