৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ 50th BCS Circular - Daily Result BD

Breaking

বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ 50th BCS Circular

৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।  এক হাজার ৭৫৫ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে ৩৯৫ জনকে। আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে পিএসসির ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়।





শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualifications):

১. সর্বনিম্ন যোগ্যতা: সাধারণ ক্যাডারের জন্য প্রার্থীদেরকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অথবা সমমানের ডিগ্রী থাকতে হবে।

২. শ্রেণি/বিভাগ সম্পর্কিত শর্ত: * প্রার্থীদের কোনো একাডেমিক পর্যায়ে (যেমন এসএসসি বা সমমান, এইচএসসি বা সমমান, স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী, স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রী) তৃতীয় শ্রেণি বা বিভাগ থাকা চলবে না। * সাধারণ ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রার্থীদেরকে সাধারণত শিক্ষাজীবনের সকল স্তরেই কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের ফল অর্জন করতে হবে।

৩. বিদেশি ডিগ্রী ও সমতাকরণ: * যে সকল প্রার্থী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী অর্জন করেছেন, তাদের ডিগ্রীর সমতাকরণ সনদ (equivalence certificate) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বা সমতাকরণ কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত হতে হবে। * যদি কোনো প্রার্থী বিদেশে পড়াশোনা করে থাকেন বা স্ব-কর্মসংস্থানে থাকেন, তবে তাকে অবশ্যই তার ডিগ্রীর স্বীকৃতি বা সমতাকরণ সনদ দাখিল করতে হবে।

৪. কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের ব্যতিক্রম: * যদিও সাধারণত কোনো স্তরেই তৃতীয় শ্রেণি থাকা যাবে না, তবে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের কিছু পদের ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রার্থী এসএসসি বা এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি পেয়েও সংশ্লিষ্ট কারিগরি/পেশাগত বিষয়ে স্নাতক (অনার্স) বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বা সমমানের ফল অর্জন করে থাকেন, তবে সেই ক্ষেত্রে তারা বিবেচিত হতে পারেন।

বয়সসীমা (Age Limit):

১. সাধারণ প্রার্থীদের জন্য: * সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২৫ মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ২১ বছর থেকে ৩০ বছর এর মধ্যে হতে হবে।

২. বয়সসীমা শিথিলতা: * মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেখুন PDF Download File এখানে

 ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষার শুরুর তারিখ ৯ এপ্রিল ও মৌখিক পরীক্ষা ১০ আগস্ট শুরু হবে বলে এতে বলা হয়।

অংশ নিতে প্রার্থীরা আগামী ৪ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আর আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন।


৫০তম বিসিএস পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, ধাপ এবং কাঠামোগত বিন্যাস সম্পর্কে প্রদত্ত উৎসসমূহে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

১. আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process)

৫০তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ওয়েব অ্যাড্রেস (http://bpsc.teletalk.com.bd) অথবা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ওয়েব অ্যাড্রেস (www.bpsc.gov.bd) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের মূল ধাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিম্নরূপ:

  • আবেদনের ফর্ম (BPSC Form-1): প্রার্থীদের তিন ধরনের আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে: (I) সাধারণ ক্যাডারের জন্য আবেদন ফর্ম, (II) টেকনিক্যাল/পেশাগত ক্যাডারের জন্য আবেদন ফর্ম, এবং (III) সাধারণ ও টেকনিক্যাল/পেশাগত (উভয়) ক্যাডারের জন্য আবেদন ফর্ম।
  • আবেদনের সময়সীমা:
    • অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.০০ মিনিট। (তবে অন্য একটি উৎসে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩, সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত আবেদনপত্র জমাদানের সময়সীমা বলা হয়েছে)।
    • আবেদন ফি জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬.০০ মিনিট। (অন্য একটি উৎসে ০৩ জানুয়ারি, ২০২৪, সন্ধ্যা ৬:০০টা পর্যন্ত ফি জমাদানের সময়সীমা বলা হয়েছে)।
  • আবেদন ফি জমা দেওয়া: আবেদন ফি টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল ব্যবহার করে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
    • ফি: সাধারণভাবে ২০০ টাকা। (শারীরিকভাবে অক্ষম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ৫০ টাকা প্রযোজ্য হবে)।
    • ফি জমাদানের পদ্ধতি: প্রথমে BCS <Space> User ID লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি SMS-এ প্রাপ্ত PIN ব্যবহার করে BCS <Space> YES <Space> PIN লিখে আবার 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।
  • ছবি এবং স্বাক্ষরের আপলোড:
    • ছবি (Photo): আবেদন ফর্মে ৩০০x৩০০ পিক্সেল (Pixel) এবং ফাইল সাইজ অনধিক ১০০ KB হতে হবে।
    • স্বাক্ষর (Signature): ৩০০x৮০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ অনধিক ৬০ KB হতে হবে।
  • প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ: আবেদনপত্র সফলভাবে জমা দেওয়ার পর Applicant's Copy (এপ্লিকেশন কপি) প্রিন্ট করে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। এই কপিতে প্রাপ্ত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি বা অনার্স/মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। ক্যাডার ভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে।

২. পরীক্ষার ধাপ (Stages of Examination)

বিসিএস পরীক্ষা সাধারণত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়:

১. প্রিলিমিনারি টেস্ট (Preliminary Test)। ২. লিখিত পরীক্ষা (Written Examination)। ৩. মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা (Viva Voce)।

৩. কাঠামোগত বিন্যাস (Structural Format)

পরীক্ষার কাঠামোগত বিন্যাস এবং নম্বর বিভাজন নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

ক. প্রিলিমিনারি টেস্ট (Preliminary Test)

  • মোট নম্বর: ২০০ (দুই শত) নম্বর।
  • সময়: ২ (দুই) ঘন্টা
  • ধরন: মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন (Multiple Choice Question বা MCQ) টাইপ।
  • নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ (শূন্য দশমিক পাঁচ শূন্য) নম্বর কাটা যাবে।

বিষয়

নম্বর বণ্টন

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

৩০

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য

৩০

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

৩০

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

২০

ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

১০

সাধারণ বিজ্ঞান

১৫

কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি

১৫

গাণিতিক যুক্তি

১৫

মানসিক দক্ষতা

১৫

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

১০

মোট

২০০

খ. লিখিত পরীক্ষা (Written Examination)

লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর সাধারণ ক্যাডার এবং টেকনিক্যাল/পেশাগত ক্যাডারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন।

১. সাধারণ ক্যাডারের জন্য:

  • লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর: ৯০০ (নয় শত)
  • মৌখিক পরীক্ষা: ২০০ (দুই শত) নম্বর।
  • মোট: ১১০০ নম্বর।

বিষয়

নম্বর বণ্টন

সময়

বাংলা

২০০

৪ (চার) ঘণ্টা

ইংরেজি

২০০

৪ (চার) ঘণ্টা

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

২০০

৪ (চার) ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

মোট (লিখিত)

৯০০

মৌখিক পরীক্ষা

২০০

সর্বমোট

১১০০

২. প্রফেশনাল/টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য:

  • লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর: ৭০০ (সাত শত) (সাধারণ বিষয়াবলী ৫০০ + পদ সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/পেশাগত বিষয় ২০০)।
  • মৌখিক পরীক্ষা: ২০০ (দুই শত) নম্বর।
  • মোট: ৯০০ নম্বর।

বিষয়

নম্বর বণ্টন

সময়

বাংলা

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

ইংরেজি

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

২০০

৪ (চার) ঘণ্টা

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

১০০

৩ (তিন) ঘণ্টা

গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা

৫০

৩ (তিন) ঘণ্টা

সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৫০

৩ (তিন) ঘণ্টা

পদ সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/পেশাগত বিষয়

২০০

৪ (চার) ঘণ্টা

মোট (লিখিত)

৯০০

মৌখিক পরীক্ষা

২০০

সর্বমোট

১১০০

৩. উভয় ক্যাডারের (সাধারণ ও টেকনিক্যাল/পেশাগত) জন্য:

  • লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর: ৯০০ (নয় শত) (সাধারণ ক্যাডারের ৯০০ নম্বরের সব পরীক্ষা দিতে হবে)।
  • পদ সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/পেশাগত ২০০ নম্বরের জন্য প্রার্থীকে অতিরিক্ত ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।
  • মৌখিক পরীক্ষা: ২০০ নম্বর।
  • মোট: ১৩০০ নম্বর।

পাসের যোগ্যতা:

  • প্রিলিমিনারি টেস্ট: প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাসের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নম্বর পেতে হবে।
  • লিখিত পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় মোট ৫০% নম্বর না পেলে কোনো প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হবে না। তবে সাধারণ ও টেকনিক্যাল/পেশাগত উভয় ক্যাডারে আবেদনকারীকে উভয় ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৫০% নম্বর পেতে হবে।
  • মৌখিক পরীক্ষা: মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৫০% নম্বর পেতে হবে।

সংক্ষেপে, বিসিএস পরীক্ষার প্রক্রিয়াটি একটি শোধন প্রক্রিয়ার (Refinement Process) মতো, যেখানে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং হিসেবে কাজ করে, লিখিত পরীক্ষা গভীর জ্ঞান যাচাই করে এবং মৌখিক পরীক্ষা চূড়ান্তভাবে ব্যক্তিত্ব ও সামর্থ্য পরিমাপ করে, যার মধ্য দিয়ে সেরা প্রার্থীরা সরকারের উচ্চপদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হন। [ঐচ্ছিক উপমা]

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন